বড় আকারের ঋণ সত্ত্বেও উচ্চগতির রেলের সম্প্রসারণ চীনে

চীনের উচ্চগতির রেল প্রকল্পের ওপর চেপে আছে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমতুল্য ঋণের বোঝা।

চীনের উচ্চগতির রেল প্রকল্পের ওপর চেপে আছে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমতুল্য ঋণের বোঝা। দেশটিতে রেল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা ও মুনাফা উভয়ই প্রত্যাশার তুলনায় কম। তা সত্ত্বেও স্থানীয় জনগণ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক অবদানের নিরিখে দেশটির সরকার খাতটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

গত মাসে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচনায় উঠে আসে রেল খাতের ‌ঋণের বিষয়টি। এ সময় প্রাধান্য পায় ইন্দোনেশিয়ার ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ। ওই অর্থ চীন সমর্থিত হাই স্পিড রেল পরিষেবায় ব্যবহার হচ্ছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘উচ্চগতির রেল প্রকল্প মূল্যায়নের সময় আর্থিক তথ্য ও অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি জনসাধারণের সুবিধা ও সামগ্রিক প্রত্যাশিত ফলাফলকেও বিবেচনায় নেয়া আবশ্যক।’

দুই বছর আগে চীনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় ইন্দোনেশিয়ায় উচ্চগতির রেল চালু হয়। কিন্তু ভাড়া বাবদ আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় সে ঋণের আকার দিন দিন বাড়ছে।

তবে গুও জিয়াকুনের মন্তব্য সরাসরি ইন্দোনেশিয়ার রেল প্রকল্প সম্পর্কিত ছিল না। তিনি উচ্চগতির রেল প্রকল্প সম্পর্কে চীনা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য করেন।

গত জুন নাগাদ চীনের জাতীয় রেলওয়ে সংস্থার ঋণ দাঁড়িয়েছিল ৬ দশমিক ১৯ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা ৮৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সমতুল্য। ঋণের পরিমাণ এক বছরে কমেছে মাত্র দশমিক ২ শতাংশ। এসব ঋণের বেশির ভাগের গ্রহীতা চায়না স্টেট রেলওয়ে গ্রুপ।

মূলত চীনের অভ্যন্তরে রেল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণে এ অর্থের বেশির ভাগ ব্যয় হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ চীনে রেলপথের আকার দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার কিলোমিটার, যা ২০১৪ সালের তুলনায় তিন গুণ।

তুলনামূলক হিসাবে দেখা যায়, জাপানের শিনকানসেন বুলেট ট্রেন নেটওয়ার্কের আকার ৩ হাজার ২০০ কিমি। অন্যদিকে চীন গত এক দশকে প্রতি বছরে একই পরিমাণ রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ করেছে। কিন্তু সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি যাত্রী সংখ্যা। অনেক স্টেশন প্রায়ই যাত্রীশূন্য থাকে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো মুনাফায় পিছিয়ে থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, চীনের পর্যটন খাত ধীরে ধীরে উচ্চগতির যোগাযোগ থেকে উপকৃত হবে। উত্তর কোরিয়ার সীমানায় অবস্থিত মাউন্ট চাংবাইয়ের মতো দুর্গম এলাকায়ও পৌঁছেছে রেল নেটওয়ার্ক। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারাও হাই স্পিড রেল নিয়ে গর্ববোধ করেন। রেলওয়ে অবকাঠামো নির্মাণ দেশটির জিডিপিতে বড় ধরনের অবদান রাখছে।

আরও